বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, নিজস্ব সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যেতে হবে। নীতিসহায়তা দিয়ে বেশি দূর যাওয়া সম্ভব নয়। দেশে গার্মেন্টস (তৈরি পোশাক) ছাড়া অন্য কোনো খাত নীতিসহায়তা নিয়ে কিছুই করতে পারেনি।
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় এডিসন প্রাইম ভবনে গতকাল ‘অটোমোবাইলস অ্যান্ড এগ্রো-মেশিনারি ফেয়ার ২০২৫’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। ‘রোড টু মেড ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে দুই দিনব্যাপী এ মেলায় হালকা প্রকৌশল ও কৃষি যন্ত্রপাতি খাতের ২৬টি স্টল এবং ১২টি শিল্পসহায়ক প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি যন্ত্রাংশ প্রদর্শন করে।
বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ও এগ্রিকালচার মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ মেলার আয়োজন করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির মূল লক্ষ্য হতে হবে ব্যয় থেকে উদ্বৃত্ত তৈরি করা। আমরা ৪০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ। তা সত্ত্বেও কেন উদ্বৃত্ত হতে পারছি না? সম্পদের পর্যাপ্ততা বিবেচনা না করেই যদি আমরা অতিরিক্ত ব্যয় করি, তখন তো উদ্বৃত্ত আসবে না। নিজস্ব সক্ষমতায় ব্যয় থেকে উদ্বৃত্ত তৈরি করে আমাদের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৮০-৯০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি করি। এর মধ্যে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের খাদ্যপণ্য ও ১২-১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য। মধ্যবর্তী শিল্পপণ্য ও ভোগ্যপণ্যও আমদানি করি। আমার বিবেচনায় আমাদের অর্থনৈতিক মডেল হওয়া উচিত ব্যয়ের উদ্বৃত্ত তৈরি করা।’
অনুষ্ঠানে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘গত ৩০ বছর বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছে রেমিট্যান্স ও আরএমজি। কিন্তু তাদের মূল চালকের শক্তি হওয়ার স্তরটা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। এখন আমাদের প্রয়োজন নতুন প্রবৃদ্ধির চালক আবিষ্কার করা।’
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের বিশ্লেষক মো. হাসিব হাসান। তিনি বলেন, ‘দেশে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের হার এখনো অসম। জমির খণ্ডিত আকার, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, দক্ষ অপারেটর ও যান্ত্রিক সেবা সংকট এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।’ কৃষি যন্ত্রপাতি ও অটোমোবাইল—উভয় খাতেই দক্ষ জনবল তৈরি, আর্থিক সহায়তা, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দেশের গাড়ির অধিকাংশ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আসে। এ জায়গা থেকে বেরিয়ে আমাদের নিজস্বতার দিকে নজর দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়ানো। কৃষি, রেমিট্যান্স ও পোশাক খাত। কৃষিজমি দিন দিন কমছে। একে প্রযুক্তিনির্ভর করতে না পারলে উৎপাদন আর বৃদ্ধি করা যাবে না। গার্মেন্টস খাত আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে। তবে এ খাত নতুন করে আর কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে না। বরং দিনে দিনে আরো কমবে। তাই উৎপাদন খাতে নজর দেয়ার বিকল্প নেই।’ এ মুহূর্তে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংই ভবিষ্যৎ বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান প্রমুখ।